ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২৬,   আষাঢ় ৩০ ১৪৩৩

পূর্বাভাসে ভরসা করেই এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:০৭ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৬:১০ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার

বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের দাবি সত্ত্বেও এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা পিছিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অনুকূল পরিস্থিতির তথ্য পাওয়ায় পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা এক-দুই দিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তা করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা কয়েক দিনের জন্য পিছিয়ে দিতে কী সমস্যা ছিল?

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

"চট্টগ্রামে যখন বন্যা হলো, তখন একে একে প্রথম রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, পরে খাগড়াছড়ি, এরপরে পুরো বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা লক্ষ্য করছিলাম যে বৃষ্টি হচ্ছিলো। আমরা মনিটরিং করছিলাম। মনিটরিং-এর সময় আমরা ৬৪টি জেলার এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রত্যেকটি বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইউএনও – সকলের সাথে কথা বলেছি। আমরা ওয়েদার ম্যানদের (আবহাওয়া কর্মকর্তা) সাথেও কথা বলেছি। তারা বললো যে বৃষ্টি হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বসে থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম। সকলেই বললো, ওয়েদার ভালো হবে। সেজন্য আমরা পরীক্ষা রেখেছি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পেলাম, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গিয়েছে।"

তবে কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে একটি পাঁচতলা ভবনে নেওয়া হয় এবং সেখানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও এমন পরিস্থিতির কথা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও ইউএনওরা জানাননি।

"শুধু কুমিল্লা সরকারি মহাবিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা নির্দেশ দিয়েছে, পরীক্ষা দেরিতে শুরু করার জন্য এবং যে মেয়েটির কাপড় ভিজে গিয়েছিলো, তার বাড়ি থেকে কাপড় আনা হয়েছে এবং এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে," যোগ করেন তিনি।

এসময় তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে পরীক্ষা পরিচালনার বিদ্যমান ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন – ডিসি, ইউএনও, পুলিশ– দুর্যোগকালীন সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে যে কোনো স্থানে পরীক্ষা হবে কি হবে না, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন তারা। আমরা বারবার তাদের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছে, আমরা ঠিকমতোই নিচ্ছি।

এদিকে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞানের ছয় ও সাত নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। এই প্রশ্ন তারা করেনি।

মন্ত্রীর ভাষায়, "কোয়েশ্চেন মডারেট করার প্রক্রিয়া দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়। আমরা এসে কোনো কোয়েশ্চেন তৈরি করতে পারিনি। বিগত সরকারের মডারেটর এই প্রশ্ন করেছে। তবুও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করেছি, ফিজিক্সের ছয় ও সাত নাম্বার প্রশ্নে আমরা ফুল ক্রেডিট (পুরো নাম্বার) দিয়ে দিবো।"

শেষে তিনি বলেন, "কোমলমতি সন্তানদের জন্য আমাদেরও মায়া রয়েছে।"

এএইচ