ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ জুলাই ২০২৬,   শ্রাবণ ৮ ১৪৩৩

খুবির প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শিক্ষার্থীদের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:০২ পিএম, ২৩ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার

নারী আবাসিক হলের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে সমাবেশের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পান কয়েকজন ছাত্রী।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করেন তারা। ইমাম হাসান ক্যান্টিন মালিক আসাদুজ্জামানের ছেলে এবং প্রায় দুই বছর ধরে ওই হলে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের আবাসিক ছাত্রীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে অভিযুক্তকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনার পর পুরো হলজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক গোপন ভিডিও পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে সেগুলো বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠানো হতো। এমনকি এ বিষয়ে অভিযুক্তের স্ত্রীও অবগত ছিলেন বলেও দাবি করেন তারা।

ঘটনার পর বুধবার রাতেই শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেন।

সমাবেশে তারা অভিযোগ করেন, যৌন হয়রানির অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। অতীতের বিভিন্ন অভিযোগেরও সুষ্ঠু বিচার হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, প্রশাসনিক ভবন এবং বিভিন্ন পকেট গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

বিজয় ’২৪ হলের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের নিরাপত্তার কথা বলে নানা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। কিন্তু নিজের হলেই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে এসব বিধিনিষেধের অর্থ কী? আগেও ওই ব্যক্তির আচরণ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিনা আহমেদ বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তারেক বিন সালাম বলেন, অভিযুক্তকে আটক রাখা হয়েছে। তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ এবং মামলা দায়েরের বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এমআর//