আলোচনায় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, তালিকায় ৩ জন
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:২৫ পিএম, ২৩ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি তা নিয়েও চলছে কানাঘুষা।
রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আলোচনা ছিল রাষ্ট্রপতি পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কিনা। আর এখন বিষয়টি টক অব দ্য কান্ট্রি—তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বিএনপি থেকে কেউ হচ্ছেন? নাকি দলের বাইরে থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হবে, এমন আলোচনাও গুরুত্ব পাচ্ছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সূত্রটি।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন—এমন আলোচনা শুরু হয়েছে সবখানে। বিএনপির ভেতর থেকেই কাউকে বেছে নেওয়া হবে, নাকি দলনিরপেক্ষ কাউকে করা হবে, তা নিয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ আরও কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হয়েছিল।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
আলোচিত নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। বিএনপির সূত্র বলছে, দল চাইলে তাঁকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে। আর ড. মোশাররফ হোসেন ও ড. আব্দুল মঈন খান সরকারের কোনও পদে স্থান পাননি। তাঁরা বিএনপির আগের সরকারে একাধিকবার মন্ত্রী-এমপির দায়িত্ব পালন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বড় পদের জন্য হয়তো তাদের রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে একেবারেই অবগত নই। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অনেকের নামই আলোচনায় আসতে পারে, সেটিই স্বাভাবিক।
এদিকে বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।’
শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন।’
এএইচ
