ঢাকা, রবিবার   ২৬ জুলাই ২০২৬,   শ্রাবণ ১১ ১৪৩৩

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যাচাই-বাছাই হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৪৯ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ০৫:৫১ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২৬ রবিবার

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ সরকার যাচাই-বাছাই করছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। 

রোববার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এ কর্মশালায় ১ হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের প্রতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের মেধা, সততা ও পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগান। অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এটি আমার তথ্য নয়, বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তথ্য। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে। যা বর্তমান সময়ের দুই-তিনটি বাজেটের সমান।’ 

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তা করতে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে ‘মহারাজ’ নামক এক ব্যক্তির শাসনামলে এলজিইডি বিভাগে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার কাজ কেবল কাগজে-কলমে দেখিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। তখন দেশের মানুষ এমন এক সময় অতিক্রম করেছে, যখন প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।’

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবী হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ নেই। প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখতে হয়। অর্থের পেছনে না ছুটে মানুষের সেবা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পেশাগত সততা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, নিজের দলের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে, তার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানানো আইনজীবীদের দায়িত্ব।

অনুষ্ঠান শেষে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ সরকার যাচাই-বাছাই করছে। জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগগুলো তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার চায় না অন্যায়ভাবে কেউ কষ্ট পাক। তবে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে আইনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার সংবিধান অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং দেশবাসীকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি। 

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ. জি. এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। 

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন। 

এএইচ