ঢাকা, বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২১ ১৪৩৩

ধর্ষণের অভিযোগ: কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে নিয়ে সালিশ বৈঠকের ভিডিও ভাইরাল

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৫:৪১ পিএম, ৫ আগস্ট ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৫:৪৬ পিএম, ৫ আগস্ট ২০২৬ বুধবার

ধর্ষণের অভিযোগে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে স্থানীয়ভাবে আটক করে সালিশ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেত্রকোণায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ ঘটনার একটি সালিশি বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে স্থানীয় লোকজন রিপন মিয়াকে আটক করেন। 

পরে তাকে উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, পাশের বাড়ির এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ওই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ লাখ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। 

তবে এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ, আদালতের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সালিশে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুর রহমানসহ এলাকার আরও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত রিপন মিয়ার বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এদিকে, সালিশে উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বাইরে আরও কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে কথা বললেও কেউ ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে কিংবা নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, এলাকার কয়েকজন মাতব্বরের উদ্যোগেই ওই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

জানা গেছে, রিপন মিয়া বিবাহিত। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ফেসবুকে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন রিপন মিয়া। সহজ-সরল উপস্থাপনা ও ঘরোয়া ভিডিওর মাধ্যমে অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। বিশেষ করে "হাই, আই অ্যাম রিপন ভিডিও" এবং "আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব" সংলাপ দুটি তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

ধর্ষণের মঙ্গলবার রাতে বিকালে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেন বলে জানান নেত্রকোণার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের। 

এএইচ