বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার নিয়োগ দিলো সৌদি
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৪:০২ পিএম, ৭ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৪:০৫ পিএম, ৭ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার
বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে গঠিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত এই জোটের নেতৃত্বে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আল-শেহরি জোটের যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের তদারকি করবেন। পাশাপাশি সদস্য দেশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় এবং জোটের সনদ অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও পালন করবেন।
গত ৩০ জুলাই সৌদি আরব, বাংলাদেশ, বাহরাইন, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন—এই ১৪টি দেশ বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দেয়।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ জোটে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এর মধ্যে কিছু দেশ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। অন্যরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার আগে ঘোষণাপত্র ও সনদে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জোটটিকে ‘উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সৌদি আরব। জোটের লক্ষ্য ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো দেশ এতে যোগ দিতে পারবে। নতুন সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনও গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট জোটের একটি পরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করা এবং আরও দেশকে সদস্য হিসেবে যুক্ত করার পথ তৈরি করা হবে।
জোট গঠনের সময় ১৪টি দেশ জানিয়েছিল, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং জ্বালানি সরবরাহের পথ সুরক্ষিত রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিষয়ক যুদ্ধের প্রভাব এখন হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমআর//
