ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৫ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ২৯ ১৪৩৩

তনু হত্যা: ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর, কারাগারে প্রেরণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৩:২৬ পিএম, ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০৭:৪১ পিএম, ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার নিজস্ব বাসস্থান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেফতারের পর শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে পিবিআই।  এ সময় আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান।

পিআইবি জানায়, হাফিজুর রহমান আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় তাকে ফের ধরা হয়েছে।

এর আগে, গত রোববার হাই কোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের বেঞ্চ হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

তারপরই রাষ্ট্রপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল বিভাগে গেলে বৃহস্পতিবার আদালত আসামির জামিন বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তিনি যদি আত্মসমর্পণ না করেন তবে তাকে গ্রেপ্তারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই নির্ধারিত সময় পেরোলেও আসামি হাফিজুর আত্মসমর্পণ করেননি। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়,  ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি পাওয়ার হাউসের সংলগ্ন ঝোপঝাড় থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাঁকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 

এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন কর্মচারী ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।

উল্লেখ্য, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় আসামি হাফিজুর রহমান কুমিল্লা সেনানিবাসে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৩ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান।

এএইচ