আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:৫১ পিএম, ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০৫:৫৭ পিএম, ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে দেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য নানা পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এই দায় ভারত এড়াতে পারে না। এটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে কাম্য নয়। এ দেশের মানুষও তা মেনে নিবে না।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাবের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে। দিল্লির মাটিতে বসে যদি তিনি দেশে রাজনৈতিক তৎপরতা চালান, তাহলে সেটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার কুশীলবদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো বিচার চলমান। কিন্তু শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেননি। বরং যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থান করেছে, তাদের জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে নারী ও শিশুও ছিল। আকাশ থেকে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরও কি তাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কোনো নেতা হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিতে পারে? এটাই আমাদের প্রশ্ন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়—আমরাও চাই। আমাদের দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে, পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, আইসিটি কোর্ট তাকে দণ্ডিত করেছে, তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। এরপরও তিনি ভারতে বসে বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা নিজেরাও প্রতিবাদ করছি। একজন ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী, দণ্ডিত অপরাধী যিনি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন—তাকে ভারতে বসে বারবার বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে, এটা আমরা সমর্থন করি না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা চেতনা বিক্রির রাজনীতি বহুবার দেখেছি। ১৯৭১-এর চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ফেল করেছে। আমরা ভবিষ্যতে চেতনা বিক্রির রাজনীতি করতে চাই না। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন বা রাজনীতি করতে চায়, তাদের কাছে আমার বক্তব্য—বাংলাদেশে আর চেতনা বিক্রির রাজনীতি চলবে না।
সালাহউদ্দিন বলেন, নিউটনের আপেল যেমন গাছ থেকে পড়ে, তেমনি গণঅভ্যুত্থান কোনো নিয়ন্ত্রণের আড়ালে পড়ে যায়নি। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে। এটি ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়। ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই আন্দোলন আমাদের অর্জন করে দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্যে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে সেটা রাজনৈতিক অপরিপক্বতা।
তিনি বলেন, আমরা ছাত্র বন্ধুদের নেতৃত্বকে অস্বীকার করি না। যারা সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে—কৃতিত্ব তাদের আছে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনও ছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হোক। সেই বাস্তবায়নের প্রতিযোগিতা হোক। আমাদের পরিকল্পনা আছে, কর্মসূচি আছে, প্রতিশ্রুতি আছে, বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। আমরা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, আমরা সংবিধানে এমন সংশোধনী আনতে চাই, যার মধ্য দিয়ে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা যায়। আমরা প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ যতবারই হোক, মোট ১০ বছরের বেশি দেব না।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন—এমন পদ্ধতি আমরা নিয়ে আসব। আমরা এমন একটি বিধান আনতে চাই, যার মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স থাকবে। আপার হাউস ও লোয়ার হাউসের মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা যদি শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন না করি, তাহলে বাংলাদেশে আমাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না। এটা চূড়ান্ত। কারণ ২০২৪ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন যারা শেখ হাসিনার আমল ভালো ছিল—এ ধরনের কথা বলার চেষ্টা করছেন, তাদের বলতে চাই, এই জুলাই আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের পরিণতি। যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেও যদি এ ধরনের আওয়াজ আসে, তাহলে বিষয়টি আমাদের ভাবতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমাদের ভেতরে মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যকে কোনোভাবেই দুর্বল করা যাবে না।
