মাসে একদিন সরকারি ব্যবস্থাপনায় জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন শিক্ষার্থীদের
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:১৯ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৫:২০ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার
দেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে পরিচিত করতে মাসে একদিন সরকারি ব্যবস্থাপনায় জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, শুধু জুলাই জাদুঘর নয়, জাতীয় জাদুঘরসহ দেশের বিভিন্ন জাদুঘরেও পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই জাদুঘর উদ্বোধনের পর সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। শুরুতে দর্শনার্থীর অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা দেখা দিলেও বর্তমানে সবাই শৃঙ্খলার সঙ্গে জাদুঘর পরিদর্শন করছেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে মাসে একটি দিন স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হবে। ওই দিন সরকারি উদ্যোগে বিশেষ করে উচ্চ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জুলাই জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে তারা দেশের ইতিহাস ও গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারে।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগ শুধু জুলাই জাদুঘরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাতীয় জাদুঘরেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এছাড়া ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জাদুঘরেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের বইয়ের পাঠের পাশাপাশি বাস্তব ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের বিষয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি জানান, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৬'-এর খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানো।
তবে নীতিমালাটি এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে এটি চূড়ান্ত করা হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের স্বার্থ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রেলব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণে কাজ করছে।
এর অংশ হিসেবে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে নতুন একজোড়া ট্রেন চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন মূল্যায়নের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে। নির্ধারিত সময় শেষে সরকার জনগণের সামনে অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে এক বছরের আলোচনা শেষে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে।
এর ফলে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ১ হাজার ৫৪টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে একই সুবিধা ভোগ করবে।
তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করছে সরকার। প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ৯ হাজার পাটের তৈরি গ্রোসারি ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক ও টেকসই প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে জেলার প্রথম বায়ো-ড্রাইং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।
এটি চালু হলে বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিল নার্সারিতে ২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন রেণুপোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ৮৬১টি কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী ১৬ আগস্ট দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবহন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সব ক্ষেত্রেই সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এসব উদ্যোগের সুফল ধীরে ধীরে জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এএইচ
