গরিবের টেসলা বিদ্যুতের চাহিদা বাড়াচ্ছে: জ্বালানিমন্ত্রী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:০২ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৫:১৮ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা গরিবের টেসলার কারণে মধ্যরাতেও রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ চাহিদা থাকছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এস কথা বলেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন বদলে গেছে। রাত ১২টার পরও চাহিদা থাকছে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সিংহভাগ রিকশাই অবৈধ সংযোগে চার্জ হচ্ছে।
আগে আমাদের পিক আওয়ার ছিল সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত, তারপর চাহিদা কমে যেত। এখন রাত ১২টাতেও বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এটা কোনোদিনও হওয়ার কথা না। সারাদিন চলার পর বিশাল পরিমাণ ব্যাটারিচালিত রিকশা রাতে একযোগে চার্জে বসানো হয়, যার ফলেই এই গ্রিডে চাপ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, যেসব সংযোগ দিয়ে এসব যানবাহন চার্জ দেওয়া হচ্ছে, তার সিংহভাগই অবৈধ সংযোগ। আমরা এসব অননুমোদিত সংযোগ চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছি। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব অবৈধ সংযোগ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে এবং আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, শিল্পখাত ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও নতুন এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বর্তমান সংকট সাময়িক এবং সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতার মতো পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী শাসন আমলে অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর ভিত্তি করে দেশটাকে একটা জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। আবার আমদানির জন্য হলেও যদি অবকাঠামো তৈরি ঠিকমতো করতো, দুটি এফএসআরইউর জায়গায় যদি চারটি বসাতো, তাহলে আমি মনে করি যে আজকের এই সমস্যাটা আমাদের দেখতে হতো না। আমেরিকা থেকে একটা বড় দল আসছে বিনিয়োগ করার জন্য, তারা এফএসআরইউতে বিনিয়োগ করতে চায়। তাদের আমরা অনুরোধ করেছি, দ্রুত আমাদের কাছে যেন আগ্রহ সম্পর্কে চিঠি দেয়।
সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতায় জ্বালানিখাতের কাঠামোগত দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। এই খাতে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দেওয়া হয়। প্রচুর পরিমাণে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা এবং বিপরীতে পুনঃব্যবহারযোগ্য জ্বালানি খুব অল্প পরিমাণে ব্যবহার হয়। আমাদের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নীতির সমন্বয় দরকার।
তিনি বলেন, গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা প্রতিদিন তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার মিলিয়ন কিউবিক, তার বিপরীতে আমরা দুই হাজার ৬০০ মিলিয়ন কিউবিক বা ৬০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছি। ৪০ শতাংশ আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। তার কারণ হল গ্যাসের রিজার্ভ দিন দিন কমে যাচ্ছে। চাহিদার অনুপাতে যোগান মেটাতে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরকারকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। স্পট এলএনজির মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
এই গবেষক জানান, কাঠামোগত দুর্বলতাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল। সেটি এখন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমএইচ
