ঢাকা, রবিবার   ১৬ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ৩১ ১৪৩৩

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:১৫ এএম, ১৬ আগস্ট ২০২৬ রবিবার

প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত বিশ্বের দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। এখানে ২৭ কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে গতকাল শনিবার ভোরে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ৪৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

এদিকে, ভূমিকম্পের পর শনিবার সারাদিনে ফ্লোরেস দ্বীপে ২৩০টিরও বেশি আফটারশক (ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী আফটারশকের মাত্রা ছিল ৬.২।

এছাড়া শনিবার একই দিনে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপেও ৬.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে USGS । এটি ফ্লোরেস থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ১৭২.৫ কিলোমিটার গভীরে হওয়া তা মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়নি। সুমাত্রায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে স্থানীয় সময় (শুক্রবার ২১:৫৮ GMT) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এনদে শহরের প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুহারিয়ান্তো জানান, ভূমিকম্পে অন্তত ১৫৭টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে নাগেওকে রিজেন্সির প্রায় ২০০০ গ্রামবাসী বাড়িঘর ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের এলাকা হলো নাগেওকে।

পূর্ব নুসা তেঙ্গারা পুলিশের প্রধান রুদি দার্মোকো বলেন, ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। এই অঞ্চলের তালিবুরা গ্রামের ৫১ বছর বয়সি বাসিন্দা নোনা রয়টার্সকে বলেন, ভূমিকম্পটি ছিল ভয়াবহ। আমরা পরিবারের সঙ্গে বাড়ির ভেতরে ১৩ জন বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। কম্পন এত শক্তিশালী ছিল যে সবাই নিজেদের জীবন বাঁচাতে দৌড়ে বেরিয়ে যাই।

সুহারিয়ান্তো জানান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তিনটি হেলিকপ্টার এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজেও এগুলো ব্যবহার করা হবে।

জানা গেছে, পূর্ব নুসা তেঙ্গারা বহু দ্বীপ নিয়ে গঠিত হওয়ায় সেখানে যাতায়াত ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা বেশ কঠিন।

ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে বন্দর শহরের স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান জানান, ভূমিকম্পে সৃষ্ট ভূমিধসের কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দল এখনো নাগেওকে রিজেন্সিতে পৌঁছাতে পারেনি। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। একটি দল ফেরিতে করে ওই এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

উদ্ধার ও ত্রাণকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।
এই একই উপকূলীয় অঞ্চলে এর আগে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে একই ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ফ্লোরেসে ২৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।