শ্যামল দত্তসহ ৩ সাংবাদিক হচ্ছেন জুলাই হত্যা মামলার আসামি
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০২:৪৮ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৩:১৫ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২৬ সোমবার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনবিরোধী বক্তব্য ও প্রচারণার মাধ্যমে উসকানি দেয়ার অভিযোগে তিন সাংবাদিক—শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে আসামি করা হচ্ছে। আগামী ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির করতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের আদালতে হাজির করা হলে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রসিকিউশনের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তিন সাংবাদিক মামলায় বর্ণিত অপরাধে প্ররোচনা দিয়েছিলেন। তার চীন সফর নিয়ে সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা কোটা ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন এবং ‘রাজাকার’শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, শিক্ষার্থীরা এই শব্দকে অবমাননাকর বলে বর্ণনা করেছিলেন। এসব মন্তব্যের জেরে ওই রাতেই বিক্ষোভ শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি ‘কাউন্টার-ন্যারেটিভ’তৈরি করেছিলেন শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা।
তৎকালীন সময়ে মোজাম্মেল হক বাবু একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং ফারজানা রুপা চ্যানেলটির প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শ্যামল দত্ত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাংবাদিক, লেখকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের আন্দোলনের বিপক্ষে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে মামলাটি পৃথকভাবে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
এদিকে ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এবং নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য একটি মামলায় বাবু ও রুপা বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।
