ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৫ ১৪৩৩

ইরানের ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনির্দিষ্টকালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৩৭ এএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ১০:৩৯ এএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য সার্বিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরানি বাহিনী আমিরাতের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। তবে তেহরান এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ "ভিত্তিহীন" দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে। 

বাণিজ্য স্থগিত ও ইউএই-এর বক্তব্য  বুধবার ভোরে এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যা শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।  

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়:  "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক আদান-প্রদান এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।"ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ  এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশের জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়ে। ঘটনাটি গত মে মাসের পর ইউএই-এর দিকে ইরানের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হলো। 

 মন্ত্রণালয়টি আরও জানায় যে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলতঃ "সামুদ্রিক চলাচলের ওপর লক্ষ্য করে" ছোড়া হয়েছিল। দেশের নিরাপত্তা কিংবা আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সামরিক অবস্থান নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমিরাত।  ইরানের প্রতিক্রিয়া: 'ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন' দাবি  অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের তোলা এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।  

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এটি একটি 'ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন' (অন্যকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে সাজানো ঘটনা) হতে পারে।  

বাঘাই সতর্ক করে দিয়ে বলেন:  এই ধরনের ভিত্তিহীন দাবি "সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির পরিপন্থী"।  অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর উচিত ইরানের বিরুদ্ধে আনা এসব কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে বিরত থাকা।  উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের "বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড"-কেও বিবেচনায় নিতে হবে।  

সূত্র: আল জাজিরা