নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলন নেতা খুন, গ্রেপ্তার ১১
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৯:৩৫ পিএম, ২১ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান আসামি শেখ সিফাত, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুমান, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ, রিয়াদ, মো. সিয়াম, মোসা. মিনারা, নাসিমা, রুমা, ইফরান, ইয়াসমিন ও সিজান ওরফে জিসান। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও একটি ওয়াকিটকি।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত জাহিদ আল আমিন বুলবুল পেশায় একজন ইজিবাইকের গ্যারেজ ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করেছিলেন। এ কারণে শেখ সিফাত ও তাঁর সহযোগীরা বুলবুলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
এরই জের ধরে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই রাতে সিফাতের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা চালিয়ে প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। মামলা করার পর থেকেই আসামিরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
পুলিশ আরও জানায়, সেই ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের সালেহ নগর এলাকায় শেখ সিফাতসহ ১০ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি বুলবুলের গতিরোধ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রামদা, চাপাতি ও চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই রাতে অভিযান চালিয়ে বন্দরের পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ এলাকা থেকে সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, গ্রেপ্তার প্রধান আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এমএইচ
