ঢাকা, শনিবার   ২২ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

আইফোনের কিস্তির অর্থ নিয়ে বাদানুবাদ,পাহাড় থেকে পড়ে মা, বাবা,ছেলের মৃত্যু

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৩৪ এএম, ২২ আগস্ট ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ১১:৫২ এএম, ২২ আগস্ট ২০২৬ শনিবার

আইফোন কেনার পর কিস্তি পরিশোধের জন্য পরিবারের কাছে অর্থ চাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে এক কিশোর ও তার বাবা-মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে। শনিবার (২২ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ১৮ বছর বয়সী কুনাল একটি আইফোন কিনেছিল। কিন্তু কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য না থাকায় সে পরিবারের কাছে অর্থ চাইছিল। সর্বশেষ কিস্তি নিয়ে বাবার সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর ক্ষুব্ধ কুনাল বাড়ি থেকে বের হয়ে ওয়ালুজ এমআইডিসি থানার আওতাধীন তিসগাঁও এলাকায় একটি পাহাড়ে উঠে যায়।

আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যরা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কুনালকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ঘিরে ভিডিও ধারণও করছিলেন অনেকে। ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কুনালকে বলেন, ‘তোমার মায়ের জন্য বাঁচো।’ জবাবে কুনাল বলে, ‘না, আমাকে মরতেই হবে। এটাই একমাত্র পথ।’

তিসগাঁও গ্রামের সাবেক সরপঞ্চ সঞ্জয় যাদবও কুনালকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ তাকে আইফোন ১৫ প্রো কিনে দেয়ার কথাও বলেন। যাদব বলেন, ‘আমরা তাকে অনেক অনুরোধ করেছি। বলেছি, তার মায়ের দিকে তাকাতে, লাফ না দিতে। সে শিক্ষিত এবং তার সামনে ভবিষ্যৎ রয়েছে। আমরা যতভাবে সম্ভব তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।’

এর কিছুক্ষণ পরেই তার বাবা মুরলিধর চন্দগুড়ে তাকে বুঝিয়ে টেনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কুনাল নিজের মৃত্যুর সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানায়। এক পর্যায়ে দুইজনই পাহাড় থেকে পড়ে যান। তাদের পেছনে থাকা মা সংগীতাও ঝাঁপ দেন।

পুলিশ জানায়, আইফোনের কিস্তির অর্থ নিয়ে বাবার সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর কুনাল সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিসগাঁও এলাকার পাহাড়ে উঠে যায়। তার বাবা মুরলিধর চাঁদগুড়ে ও মা সংগীতা তাকে অনুসরণ করে সেখানে যান। স্থানীয় অন্য বাসিন্দারাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তারা কুনালকে পাহাড় থেকে নিচে নামার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বিভাগের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে সেখানে নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা সম্ভব হয়নি। দুপুর ১টার দিকে কুনালের বাবা তার কাছে উঠে গিয়ে তাকে পাহাড়ের প্রান্ত থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় বাবা ও ছেলে দুজনই ভারসাম্য হারিয়ে নিচের গিরিখাতে পড়ে যান। স্বামী ও ছেলেকে পড়ে যেতে দেখে কয়েক মুহূর্ত পর মা সংগীতাও পাহাড় থেকে লাফ দেন।

ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ঘটনাটি দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থান করা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সামনে ঘটে।

এমএইচ