আলোচনা ব্যর্থ: কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১২:৩১ পিএম, ২২ আগস্ট ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ১২:৩৮ পিএম, ২২ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
তিন দিন ধরে চলা নিবিড় আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এর পরপরই প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শনিবার ইস্টার্ন টাইম রাত ১২টা ১ মিনিটে (জিএমটি ভোর ৪টা ১ মিনিট) শেষ হয়। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর দুই দেশের কর্মকর্তারাই স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দেশও সমপরিমাণ ("ডলারের বিপরীতে ডলার") পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে।
এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, "সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ভালো বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করতে কানাডার অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি। তবে কানাডিয়ানদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য সেই অগ্রগতি যথেষ্ট ছিল না।"
বাণিজ্য যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব থেকে দেশের শ্রমিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে আগামী দিনগুলোতে বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সমঝোতা না হওয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, এটি ছিল "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদার হওয়ার ক্ষেত্রে কানাডার হাতছাড়া হওয়া একটি বড় সুযোগ।"
গ্রিয়ার অভিযোগ করে বলেন, "সপ্তাহের শুরুর দিকে সম্মত হওয়া শর্তাবলি অনুযায়ী চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে কানাডা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কানাডাকে সর্বোত্তম সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও তাদের নতুন দাবি এবং আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার প্রবণতা সতর্ক ভারসাম্যকে নষ্ট করেছে।"
নতুন এই শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মধ্যে প্রধানত রয়েছে:
ইলেকট্রনিক্স পণ্য,শিল্প যন্ত্রপাতি,দুগ্ধজাত পণ্য।
উল্লেখ্য, এর আগেই ইস্পাত, কাঠ ও গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চড়া শুল্ক বহাল রয়েছে।
গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই ট্রাম্প কানাডার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে শুল্ক বসান, যার জবাবে অটোয়াও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। এরপর থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তাপ বাড়ছিল।
কানাডার বিরুদ্ধে "মার্কিন পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের" অভিযোগ তুলে গত জুলাইয়ে এই নতুন শুল্কের ঘোষণা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও শুক্রবার ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে একটি চুক্তি হতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ জুলিয়ান কারাগুয়েসিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে শত শত কানাডীয় পণ্য চড়া দামের দরুন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে কার্যত ছিটকে পড়বে।
সূত্র: আল জাজিরা/এমএইচ
