মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দিতে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:০৩ এএম, ২৩ আগস্ট ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ১০:৪৪ এএম, ২৩ আগস্ট ২০২৬ রবিবার
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দিলে প্রতিবেশী দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটি বলছে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবে তেহরান।
তবে এরপরও কোনও দেশ ওয়াশিংটনের পাশে থাকলে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি এসব দেশ বিকল্প তেল পরিবহনপথ ব্যবহার করলে সেগুলোতেও হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই। তিনি বলেন, আমরা সব প্রতিবেশী দেশকে বলছি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দেবেন না। অন্যথায় আমরা তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক অর্থনৈতিক হুমকি দেয়ার মধ্যেই রেজাই এ মন্তব্য করলেন।
এর আগে গত বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে এ যাবতকালের ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’চালাবে তার সরকার। দুই দেশের চলমান সংঘাতের মধ্যেই এ ঘোষণা দেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর থেকে তিন দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্রের। আর এরপরই ট্রাম্প এ হুমকি দেন। তবে সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক বা সামরিকভাবে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোনও পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
চলতি সপ্তাহে ইরানের অর্থনীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ‘কোনও ধরনের সহায়তা’দেয়া দেশগুলোকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি এবং কোনও দেশের নামও উল্লেখ করেননি।
পরদিন ট্রাম্পের হুমকির সুরেই কথা বলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, ‘আপনি হয় আমাদের সঙ্গে আছেন, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’
এমন অবস্থায় শনিবারের সাক্ষাৎকারে ইরানের আঞ্চলিক কৌশলকে তিন ধাপে ভাগ করে ব্যাখ্যা করেন রেজাই। তার প্রথম ধাপ হবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা আলোচনা করব। এরপর বন্ধুত্বপূর্ণ ভাষায় তাদের আমেরিকা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করব। কারণ আমরা আসলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে চাই না।’
যেসব দেশ এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেবে, তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য সময় দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। রেজাই বলেন, ‘কিন্তু তৃতীয় ধাপে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলেও রেজাইয়ের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানের সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে যুদ্ধ বন্ধ করতে তেহরানকে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করা যায়।
তিনি বলেন, ‘তারা আশা করছে, সম্ভব হলে অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে আমাদের ঐক্য ভেঙে দেবে। এরপর একদল বিক্ষোভকারী রাস্তায় নামবে এবং একইভাবে তারা আমেরিকার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে সহায়তা করবে।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলোচনা থমকে আছে। এর আগে ১৭ জুনের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ব্যর্থ হয়। ওই সমঝোতায় ‘সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধের’ কথা বলা হয়েছিল।
মূলত ইরানের উপকূলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধের বড় কারণ হয়ে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরান প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে তেল ও সারের মতো পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
পণ্য রপ্তানির জন্য আগে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে। তবে রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিকল্পনায় অংশ নিলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনের এসব বিকল্প পথও ইরান হামলার লক্ষ্যবস্তু করবে।
শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তেহরানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ‘নিজ দেশের আইন ও কর্তৃত্ব অন্য দেশের ওপর প্রয়োগের’ চেষ্টা করছে।
এদিকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলার লক্ষ্য বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেয়া ইউরোপের মার্কিন মিত্রদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে ইরান।
এমএইচ
