ঢাকা, বুধবার   ২৬ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

মহানবীর আদর্শ অনুসরণেই গড়ে উঠতে পারে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ: প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৩১ এএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৮:৫৯ এএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬ বুধবার

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অনুসরণ করে ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাব ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর আগমন মানুষের সামনে সত্য, ন্যায় ও আলোর নতুন পথ উন্মোচন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.) মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের পাশাপাশি সত্যনিষ্ঠা, ন্যায়বিচার, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ ও পথনির্দেশ হিসেবে বিবেচিত।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সব মুসলিমের প্রতি শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য আল্লাহ তায়ালা সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।

মহানবী (সা.)-এর জীবন পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, ধৈর্য, দয়া ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। আল্লাহর প্রতি তাঁর গভীর আনুগত্যের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতাও তাঁর জীবনাচরণে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা কিংবা সামাজিক অবস্থানের পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার শিক্ষা দিয়েছেন মহানবী (সা.)। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি করে না; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও দায়িত্ববোধের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।

বর্তমান বিশ্বের নানা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা এবং নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কাজে লাগানোর মাধ্যমে ন্যায়বোধ, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করা যায়। এর মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।

দেশের তরুণ সমাজকে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে মহানবী (সা.)-এর জীবন হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার উৎস।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকতে, অন্যের প্রতি সম্মান দেখাতে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; মানবিকতা, নৈতিকতা ও পারস্পরিক সহাবস্থানের মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই তাঁর আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পরিবার ও সামাজিক আচরণে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধকে সমাজে আরও শক্তিশালী করতে পারলে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন সবাই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক লাভ করেন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ যেন ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করে—এ কামনাও করেন তিনি।

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসী এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

এমএইচ