ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১২ ১৪৩৩

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ১৪ হুথি যোদ্ধা নিহত

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:০৫ এএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬ বুধবার

ইয়েমেনে বন্দরশহর হোদেইদায় হুথি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি সশস্ত্র বাহিনী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্স (এনআরএফ)। এতে ১৪ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্স (এনআরএফ)। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হোদেইদা শহরে হুথিদের ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযানে নিহত হয়েছে এএই ১৪ জন। সরকারি বাহিনীর এ অভিযান নিয়ে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্স জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হুথি বিদ্রোহীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে মঙ্গলবার হোদেইদায় ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল রেজিস্ট্যান্স কাউন্সিল। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই পরিচালনা করা হয়েছে এ অভিযান।

ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি পরিষদ সভায় এ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে বৈঠকে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল এবং সৌদি সামরিক জোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবারের অভিযানের পর বিবৃতিতে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, “রাষ্ট্র তার প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার, সমগ্র জাতীয় ভূখণ্ডের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ইরান-সমর্থিত হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের দ্বারা সৃষ্ট মানবিক দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।”

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে  ২০১৫ সালে হুথি গোষ্ঠী রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি সেনাবাহিনী। সে অভিযান এখনও চলছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে সেই প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। সৌদি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে পুরো ইয়েমেন হুথিরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে সেই প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

তবে পরস্পরের প্রতি ব্যাপক বৈরী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালে এক অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে যায় সৌদি আরব এবং হুথি গোষ্ঠী। তারপর থেকে উভয়পক্ষ মোটা দাগে যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও গত সপ্তাহে সানার বিমান বন্দরের রানওয়েতে হামলা এবং সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার সেই হামলার দায় স্বীকার করার পর থেকে ফের উত্তেজনা বেড়েছে সৌদি এবং হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি