সিরীয় সেনাবাহিনীতে একীভূত হয়ে বিলুপ্ত কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১১:২৮ এএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬ বুধবার
আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াকু প্রধান কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনী 'সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস' (SDF) আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বিলুপ্তি ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সরকারের সিরীয় সেনাবাহিনীর সাথে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দামেস্কে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এক বক্তব্যে এসডিএফ প্রধান মাজলুম আবদি জানান, বাহিনীটি আর কোনো স্বতন্ত্র সামরিক সংস্থা হিসেবে থাকবে না। সিরিয়ায় আইএস-বিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সহযোগী ছিল এসডিএফ। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর নতুন আল-শারা সরকারের সাথে দূরত্ব কমতে শুরু করে দামেস্ক ও ওয়াশিংটনের।
চলতি বছরের শুরুতে সরকারি অভিযানের মুখে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর একীভূত হওয়ার এই চুক্তিতে পৌঁছায় তারা। চুক্তির আওতায় যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে:
সিরিয়ার ইতিহাস থেকে কুর্দিদের প্রান্তিকীকরণের অধ্যায় শেষ করে কুর্দি ভাষায় শিক্ষার অধিকার ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। চলতি বছর থেকেই এই শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক সূত্র অনুযায়ী, মাজলুম আবদি প্রেসিডেন্ট আল-শারার উপদেষ্টা এবং কুর্দি প্রশাসনের শীর্ষ নেতা ইলহাম আহমেদ পার্লামেন্ট প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ দিতে যাচ্ছেন। কুর্দি, আরব, তুর্কমেন ও অ্যাসিরীয়—সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও নতুন সিরিয়া বিনির্মাণ।
একীভূতকরণে সাত মাসের বেশি সময় লাগার অন্যতম কারণ ছিল ভারী অস্ত্র এবং বিশেষ করে এসডিএফ-এর নারী যোদ্ধা বাহিনী ওয়াইপিজে (YPJ)-এর পদায়ন। ওয়াইপিজে চেয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পেশাদার সৈনিক হিসেবে যুক্ত হতে। দামেস্কের পক্ষ থেকে তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় এই একীভূতকরণ মাঠে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সিরিয়ায় মার্কিন দূত টম ব্যারাক এই পদক্ষেপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কুর্দি অংশীদারদের ত্যাগেরই স্বীকৃতি। বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে 'সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় মদতদাতা' দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরদিনই এসডিএফ-এর এই বিলুপ্তির ঘোষণা এলো। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়াকে আল-শারা একটি "বেদনাদায়ক অধ্যায়ের সমাপ্তি" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিলুপ্তি ঐক্যবদ্ধ সিরিয়া গঠনের পথ প্রশস্ত করবে। সিরীয়-মার্কিন লেখক সালেহ মোবারক মনে করেন, এটি অপরাপর স্বাধীন বা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং প্রকাশ করবে যে সিরিয়া অখণ্ড থাকছে। তবে সাধারণ কুর্দিদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে রূপ পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সুত্র: আল জাজিরা
