ঢাকা, বুধবার   ২৬ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১১ ১৪৩৩

নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ শত শত মানুষ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৪১ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৮:৪৭ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬ বুধবার

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নেপাল ও চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত তিব্বতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। 

এতে শত শত মানুষ কাঁদা ও বন্যার পানির নিচে চাপা পড়েন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মানুষ নিখোঁজ আছেন। এরমধ্যে ৩৮৪ জনই পর্যটক। তাদের সর্বোচ্চ ১০৫ জন ভারতীয় আছেন। এছাড়া অন্যান্য দেশের নাগরিকদের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা জানতে পেরেছেন সেখানকার লেন্দে নামে একটি নদীতে বরফ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পানি আর স্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে না এসে জমতে থাকে। 

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে যখন আকস্মিক বন্যার পানি নেপালে নেমে আসে; তখন তিব্বতে একটি ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভূমিকম্পের কারণে বরফ নড়ে যায় এবং লেন্দে নদীর পানি একসঙ্গে ভোতকোশি নদী দিয়ে নিমে নেমে আসে।

কাঠমান্ডুভিত্তিক ‘টাচ কৈলাস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বসু কুমার অধিকারী জানান, ৯৩ জন নেপালিসহ মোট ৩৯০ জন তীর্থযাত্রীর ওই সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। কাঠমান্ডু পোস্টকে তিনি বলেন, ‘বেলা তিনটা পর্যন্ত আমরা মাত্র কয়েকজনের খোঁজ পেয়েছি। বাকি কোনো তীর্থযাত্রীর সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারিনি।’

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত দৃশ্যগুলোতে বন্যার পানিতে ভেঙে পড়া বাড়িঘর ও ভাসমান গাড়ি দেখা গেছে। পানির তোড়ে একটি লোহার সেতুও ভেসে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, বন্যার পানিতে আস্ত গ্রাম তলিয়ে গেছে।

রসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পরিয়ার বলেন, ‘বড় ধরনের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।’ গ্রামের পর গ্রাম এবং বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ভোতেকোশি নদীর তীরের বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

রসুয়া জেলার স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বি কে রয়টার্সকে বলেন, ‘যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই শুধু ধ্বংসযজ্ঞ চোখে পড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নদীর পাশের জনবসতিগুলো পুরোপুরি ভেসে গেছে। আমার নিজের পরিবারেরই পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।’

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বস্নেত জানিয়েছেন, পানি না কমা পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারবে না।

আকস্মিক এই বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে গত বছরও একই নদীতে এক ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল। পরে জানা যায়, একটি হিমবাহের হ্রদ থেকে ওই বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল।

এদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ তল্লাশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। একই সঙ্গে বন্যা–পরবর্তী অন্য কোনো দুর্যোগ এড়াতে নজরদারি ব্যবস্থা ও আগাম সতর্কসংকেত আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

এএইচ