সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল: সিইসি
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৭:১৮ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৭:২৩ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সিইসি এসব কথা বলেন।
এর আগে তিন নির্বাচন কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। একজন কমিশনার বিদেশে অবস্থান করায় এ সাক্ষাতে যোগ দিতে পারেননি।
প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট স্থায়ী এ বৈঠকে রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান সিইসি।
তিনি বলেন, অভিনন্দনের জবাবে রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও দেশে-বিদেশে প্রশংসিত একটি নির্বাচন বলে অভিহিত করেন এবং এ জন্য কমিশনকে অভিনন্দন জানান।
সিইসি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছি, জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সমান পেশাদারিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে চাই। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা যেভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চান, আমিও তা চাই। নিরপেক্ষতা ও স্বাধীন সত্তা বজায় রাখতে আমার পক্ষ থেকে যাবতীয় সহযোগিতা থাকবে।
নাসির উদ্দিন বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদের জানান-তিনি দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও একই বিষয়ে আগ্রহী।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসির সার্বিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত নথি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে ফেরত এসেছে, এখন শুধু সংশ্লিষ্ট ম্যানুয়াল তৈরির কাজ বাকি। আমরা সচিবালয়কে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে বলেছি। সবুজ সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচনী কাজে নেমে পড়বে কমিশন।
তফসিল ও ভোটের সময়সূচি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দুটি নির্বাচনের সময় যাতে পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করেই এগোতে হচ্ছে। আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই একটি তফসিল দিতে সক্ষম হবো। তবে নির্বাচন শেষ হতে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
এদিকে বন্যা, দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা এবং আগামী বছর ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে রমজান শুরু হয়ে তার পর ঈদুল আজহা, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুম চলে আসায় হাতে থাকা উপযোগী সময় খুবই সীমিত বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, শীতকালে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা হওয়ায় এবং সে সময় স্কুলভবন ও শিক্ষকদের ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বয় করা হবে। পরীক্ষা দ্রুত শেষ হলে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ভোট শুরুর চেষ্টা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন সিইসি।
কোন এলাকা অগ্রাধিকার পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ আইন অনুযায়ী আগেই শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোকে প্রথমে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগে ছয়টি ধাপে এবং আরও কিছু বিবিধ আসনে মিলিয়ে মোট সাতটি ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও যেসব ইউনিয়নে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো আগে চিহ্নিত করা হবে। তাছাড়া এসব নির্বাচন যেন খারাপ মৌসুমে না পড়ে, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের শুষ্ক মৌসুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
দেশে ও প্রবাসে থাকা ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার সংখ্যা তুলনামূলক কম। তাই সীমিত পরিসরে সেখানে পোস্টাল ব্যালট চালু করা হবে, যা প্রবাসী ভোটারদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতি যাতে ভবিষ্যতেও ব্যবহার করা যায়, সেজন্য পরামর্শকদের মাধ্যমে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং একটি ম্যানুয়ালও তৈরি করা হচ্ছে। এতে বর্তমান কমিশন দায়িত্বে না থাকলেও ভবিষ্যতে অন্য কমিশন এই ব্যবস্থা চালিয়ে নিতে পারবে।
সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বিরোধ নিরসনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি এসেছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এখন পর্যন্ত চিঠি পাননি তারা; পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি কমিশনের ওপর কিছু চাপিয়ে দেননি। তিনি শুধু প্রস্তুতি কেমন চলছে তা জানতে চেয়েছেন এবং কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে, পেশাদারভাবে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে শিগগিরই সমন্বয় সভা শুরু করবেন এবং সংস্থাগুলোকে অ্যালার্ট করা হবে। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীকে 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় সহায়তার জন্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অর্থনীতির ‘কনজিউমার সুভারেনটি’ বা ক্রেতার সার্বভৌমত্ব ধারণার উদাহরণ টেনে এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচনে ‘ভোটার সুভারেনটি’ বা ভোটার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অর্থাৎ ভোটারদের ইচ্ছাই হবে চূড়ান্ত। জাতীয় নির্বাচনে আমরা যে মান বজায় রেখেছিলাম, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ন্যূনতম সেই স্ট্যান্ডার্ড, ক্রেডিবিলিটি ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
