ঢাকা, শনিবার   ২৯ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৩ ১৪৩৩

রংপুরে চার হত্যাকাণ্ড: তদন্তে গাফিলতির সুযোগ নেই বললেন কমিশনার 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:৫৫ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত আরও গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কমিশনার জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ বের করা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

মাহবুবুর রশীদ বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তদন্ত পেশাদারভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে, সেগুলোর উত্তর তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে খুঁজে বের করা হবে।

তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় উঠে আসা তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে পুলিশের।

নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ পানি দিয়ে পরিষ্কার করে আলামত নষ্ট করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। তবে ঘটনাস্থলকে অপরাধস্থল হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কমিশনার স্পষ্ট করে বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনায় তদন্তে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। তদন্তকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যও কাজে লাগাচ্ছেন।

রংপুরে মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও কথা বলেন নতুন পুলিশ কমিশনার। তার ভাষ্য, মাদক সমস্যা শুধু রংপুরের নয়; এটি সারাদেশের একটি সামাজিক সমস্যা।

দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এর কিছুটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে পূজা চক্রবর্তী তার বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ফোন করেন। ফোনে যোগাযোগ না হওয়ায় তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ফোন করেন। তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরে মাছুয়াপাড়ায় বোনের বাসার সামনে যান।

বাড়িতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে স্বজনদের উপস্থিতিতে বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে নেওয়া হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয় এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতদের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শুরুতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছিল।

আলোচিত এই হত্যামামলার তদন্তভার পরে কোতয়ালী থানা থেকে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী।

পুলিশ বলছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এমএইচ