মধ্যরাতে বাইকে অচেতন তরুণীর রহস্য উদঘাটন, বোনের জিম্মায় হস্তান্তর
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৭:০৯ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০৭:১২ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী মহাসড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার রহস্যময় ঘটনা উদঘাটন করেছে গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ।
শনিবার দুপুরে গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ, দক্ষিণ বিভাগ) এসএম শফিকুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেলে থাকা মেয়েটি পরিচয় পাওয়া গেছে। দুপুরে মেয়েটি থানায় এসে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন।
পরে বড় বোন টঙ্গির বউবাজার বাসিন্দা হালিমার কাছে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের যাত্রা শুরু হয় রাজধানীর উত্তরার জসিমউদ্দিন থেকে, যাওয়ার কথা ছিল টঙ্গীতে। কিন্তু তারা টঙ্গী না গিয়ে মিরপুরে বান্ধবীর বাসায় অবস্থান নেয়। ঘটনা প্রকাশের পর আমরা বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে তাদের বের করার চেষ্টা চালাই। অবশেষে খুঁজে বের করতে পেরেছি।
তিনি আরও জানান, মেয়েটি আমাদের নিশ্চিত করেছে সে সুস্থ আছে। সেই দিনের যে ঘটনা তা একান্তই ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সমস্যার ফলে তৈরি হয়েছিল, এখন সে সুস্থ আছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা মেয়েটির দেয়া বক্তব্য গ্রহণ করেছি এবং টঙ্গীর বউবাজার বাসিন্দা বড় বোন হালিমার কাছে সে থাকে, সেই বোনের জিম্মায় মেয়েটিকে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পারিবারিক বিভিন্ন সমসার কথা জানিয়ে নিজেকে দায়ী স্বীকার করে ওই নারী জানান, আমিই সেই মেয়েটা। যে কথাগুলো ভাইরাল হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা, আমার ৫-৬টা বিয়ে হয়নি, তা যদি হতো তাহলে তা সামনে এমনিতেই চলে আসতো। যা ঘটেছে তার জন্য আমি নিজেই দায়ী। ঘটনার দিন তিনি জসিমউদ্দন রোডের কিচেন হাউসের গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে অচেতন অবস্থায় এক তরুণীসহ বাইকে তিন আরোহীকে ঢাকার রাস্তায় দেখতে পান ওমরাহ সফর শেষ করে এয়ারপোর্ট থেকে বগুড়ায় ফেরার পথে এক ব্যক্তি। তিনি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন।
তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল। এতে মেয়েটি মৃত নাকি অচেতন ছিলেন, তা নিয়ে তার মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।
সন্দেহজনক এই দৃশ্য দেখে তিনি মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটসহ স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ সিসিটিভি’র ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্তের চেষ্টা চালায়। রেজিস্ট্রেশনের অসংগতি ও মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছিল। তাদের পরিচয়সহ যাবতীয় তথ্য সংগ্রহে কাজ শুরু করে পুলিশ। অবশেষে তাদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এএইচ
