নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪, নিখোঁজ ২,৪৯৮
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১১:২৪ এএম, ৩০ আগস্ট ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ১১:২৮ এএম, ৩০ আগস্ট ২০২৬ রবিবার
নেপালে ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্যা-কবলিত জেলাগুলোতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৪ জনে। জেলাজুড়ে তল্লাশি অভিযান চলার মধ্যেই এখনও ২,৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিকও আছেন।
উদ্ধার হওয়া ৭৩৪টি মরদেহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে চিতওয়ান (২৫৯টি), পূর্ব নাওয়ালপরাসি (১৮৪টি) ও পশ্চিম নাওয়ালপরাসি (৮২টি) জেলায়। এছাড়া গোর্খা, নুয়াকোট, ধাদিং, তানাহুন ও রাসুওয়া জেলা থেকেও মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। স্রোতের তোড়ে অনেক দেহ শত শত কিলোমিটার দূরে ভেসে যায়।
রাসুওয়া জেলায় সবচেয়ে বেশি ৫৬২ জন নিখোঁজ। অন্যান্যদের মধ্যে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন, ৫৮৯ জন বিদেশি ও ১২৭ জন নেপালি ভ্রমণসঙ্গী এবং নেপালী সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৮৫ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। বন্যায় মোট ২৪২ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই চিকিৎসাধীন।
দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় প্রায় ২০ হাজার (১৯,৮৯৫) নিরাপত্তা কর্মী মাঠে নেমেছেন। নিরাপত্তা বাহিনী এ পর্যন্ত ৮,১৮৬ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ২৭৯ জন এবং অন্যান্য স্থান থেকে ২২৭ জন বিদেশি নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মৃতদের বিশাল সংখ্যার কারণে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অজ্ঞাত মরদেহগুলো সংরক্ষণের জন্য ২১টি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সরকার রাসুয়া ও নুয়াকোটে ১০ কোটি রুপি করে এবং ধাদিংয়ে ৫ কোটি রুপি সরাসরি সহায়তা দিয়েছে। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বোঝাই ৩৭টি ট্রাক দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে এবং উপদ্রুত অঞ্চলে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
