ঢাকা, সোমবার   ৩১ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৬ ১৪৩৩

এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে সমবেত হচ্ছেন পুতিন-শি সহ বিশ্বনেতারা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০২:৩৮ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০২৬ সোমবার

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে (সোমবার ৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সমবেত হচ্ছেন রাশিয়া, চীনসহ এক ডজনেরও বেশি দেশের শীর্ষ নেতারা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছাড়াও এই সম্মেলনে ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

ঐতিহাসিকভাবে এসসিও মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিলেও, পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাব মোকাবিলায় এটি 'বহুমেরু-বিশিষ্ট বিশ্ব' (multipolar world) গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান মঞ্চে পরিণত হয়েছে। যদিও সংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণায় বলা হয়েছে জোটটি কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, তবে পুতিন ও শি জিনপিং এটি থেকে পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে যৌথ বার্তা দিয়ে আসছেন।

গত বছর সদস্যপদ পাওয়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন। পাশাপাশি পূর্ণ সদস্য না হয়েও 'সংলাপ সহযোগী' হিসেবে যোগ দিচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
 বিশকেকে পুতিনের সাথে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়ার সাথে ইরানের সামরিক এবং চীনের সাথে গভীর জ্বালানি সম্পর্ক এই জোটের ভূ-রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

১০টি স্থায়ী সদস্য এবং তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার সহ ১৫টি 'সংলাপ সহযোগী' রাষ্ট্র। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির (GDP) ২৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে এই জোট।


চীন ও রাশিয়ার এই ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চীনের রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্তকে ‘দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে তিনি রয়টার্সকে জানান: চীনের অভ্যন্তরীণ দুর্বল অর্থনীতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পণ্য রপ্তানির নীতি মেনে নেওয়া যায় না। জি-২০ সদস্য দেশগুলোর উচিত চীনের সাথে তাদের বিদ্যমান বাণিজ্য শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা করা।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও জানান, তিনি জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে ‘পিপলস ব্যাংক অফ চায়না’-র গভর্নর প্যান গংশেং-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার পরিকল্পনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বিশকেকের এসসিও সম্মেলন বিশ্ব রাজনীতির নজর কেড়েনি।

সূত্র: আল জাজিরা