ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৭ ১৪৩৩

নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:২২ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার

সরকারের অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর আওতায় আসছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরাও। 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে তখন তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে সরকারের একজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি যাচাই করে জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার একটি অংশ সরকার এমপিও বা ‘মান্থলি পে অর্ডার’-এর মাধ্যমে দিয়ে থাকে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের শতভাগ সরকারি অংশ পান। এর পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতাসহ নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে।

বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া পেতেন। পরে বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে বর্তমানে যে গ্রেডে যে শিক্ষক বা কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন, সেই গ্রেড অনুযায়ী তার নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হবে। ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন এবং বাড়িভাতায়ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

দেশে বর্তমানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।

কিছু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওর অর্থের বাইরে নিজেদের আয় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের আর্থিক সক্ষমতা নেই।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অনুমোদিত নতুন বেতনকাঠামোতেও আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

গ্রেডভেদে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন, পদ ও বিষয়ভেদে শিক্ষকদের গ্রেড আলাদা হওয়ায় প্রত্যেকে নিজ নিজ বর্তমান গ্রেড অনুযায়ী নতুন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।

নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের তুলনামূলক বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ গ্রেডগুলোর কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ তিন ধাপ শেষে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত মূল বেতনের পুরো সুবিধা পাবেন।

অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে একই বছরের ১ জুলাই অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

ফলে নতুন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও তাদের নিজ নিজ গ্রেড অনুযায়ী বর্ধিত মূল বেতন এবং সংশ্লিষ্ট ভাতার সুবিধা পাবেন।

এমএইচ