মার্কিন পাসপোর্ট পেতে পিতামাতাকে দিতে হবে নাগরিকত্ব প্রমাণ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০২:৫৭ পিএম, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’বা জন্ম পর্যটন সীমিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসন সংক্রান্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রস্তাবিত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশুদের মার্কিন পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার সময় পিতামাতা বা আইনি অভিভাবকদের নিজেদের নাগরিকত্ব কিংবা বৈধ অভিবাসন স্থিতির প্রমাণ দাখিল করা বাধ্যতামূলক হতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের পর্যালোচনাধীন খসড়া নিয়মে বলা হয়েছে, আবেদনকারী শিশু নির্দিষ্ট কোনো নির্বাহী আদেশের আওতায় বাদ পড়ছে কি না, তা যাচাই করতেই পিতামাতার বিস্তারিত পরিচয় ও নথিপত্র চাওয়া হবে।
পাসপোর্টের আবেদনের সময় পিতামাতাকে তাদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট, জন্মসনদ, গ্রিন কার্ড বা আই-৯৪ (I-94) ফরমের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর পাসপোর্ট আবেদনে পিতামাতার ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র এবং সম্পর্কের প্রমাণ দেখালেই চলে। আবেদনপত্রে নাগরিকত্বের একটি ঘরে টিক চিহ্ন দেওয়ার নিয়ম থাকলেও আলাদা করে কোনো সহায়ক নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল না।
বিদেশী কূটনৈতিক কর্মকর্তা, প্রতারণা বা বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের চেষ্টাকারী এবং নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের আওতায় থাকা ব্যক্তিবর্গের সন্তানদের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় নজরদারি বাড়াতে এই কড়াকড়ি প্রস্তাব করা হয়েছে।
জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রাথমিক প্রচেষ্টাটি ইতিপূর্বে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ বিচারকের রায়ে আটকে যায়। সর্বোচ্চ আদালত উল্লেখ করেছিলেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মূল চেতনার পরিপন্থী।
পরবর্তীতে সংশোধিত ও সীমিত পরিসরে নতুন আদেশ জারি করা হলেও তা নিয়ে ফের আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট বা বাইডেন প্রশাসনের সময়ে নিযুক্ত একাধিক ফেডারেল বিচারকের আদালতে এ নিয়ে শুনানি চলছে। মেরিল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক সম্প্রতি এই আদেশ বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পূর্বে এটি স্থগিত করা যায় কি না, তা নিয়ে আইনি পর্যালোচনার সুযোগ দিয়েছেন।
এমএইচ
