ইসরায়েল ও পশ্চিমাদের নিরাপত্তায় ইরানের বিরুদ্ধে লড়ছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:৪৭ এএম, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১০:০১ এএম, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই এবং তিনি নিজেই ইসরায়েলের পাশে থাকবেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। প্রয়োজন দেখা দিলে ওয়াশিংটন আবারও ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলকে সহায়তার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেও যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান যদি ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে সক্ষম হতো, তাহলে পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে হামলা চালানোর পাশাপাশি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরকেও লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারত।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।
নতুন করে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এর আগে ইসরায়েলিদেরও আশ্বস্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কানকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েলের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি তিনি দেখবেন।
প্রায় এক মাসের বিরতির পর নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার সময় ট্রাম্প এসব মন্তব্য করলেন। এর আগে সপ্তাহান্তে ইরানের লারাক দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে ইরান।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য তার দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বরাবরই ইসরায়েলের নিরাপত্তায় মার্কিন সমর্থনকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি হিসেবেও তুলে ধরেছেন।
এদিকে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানের ওপর আবারও হামলা চালাতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজগুলো বড় ধরনের বাধা ছাড়াই চলাচল করছে। তবে মাঝে মধ্যে ইরান ড্রোন পাঠালে সেগুলো মার্কিন বাহিনী ভূপাতিত করছে বলেও জানান তিনি। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত শক্তিশালী বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরান হরমুজ প্রণালির আশপাশে রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা পুনর্গঠনের পাশাপাশি সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের সক্ষমতাসম্পন্ন সরঞ্জাম তৈরির চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এসব তৎপরতা শনাক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামগুলো ধ্বংস করেছে এবং প্রণালিতে থাকা মাইনও সরিয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের জন্য বিশেষ ধরনের রকেট তৈরির চেষ্টা করছিল। হরমুজ প্রণালির কাছে এসব সামরিক তৎপরতা শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র গত রাতে ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালিয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে সীমিত জবাব এলেও মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের আঘাত হেনেছে এবং প্রণালির কাছে ইরানের তৈরি করা নতুন প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রয়োজনে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তেহরান আর কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে।
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি বিষয়টি কেবল কথার প্রসঙ্গ হিসেবে তুলেছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
এরপর ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার ও কোনারাক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে।
পরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করে, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তারা হামলা চালিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন এবং ইরাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএইচ
