নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি রোববার
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১২:২৮ পিএম, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১২:৪১ পিএম, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভায় নতুন এই বেতনকাঠামো অনুমোদিত হয়।
নবম পে স্কেলের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী নিম্ন গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা। এতে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা (১৪২% বৃদ্ধি) করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা (১০০% বৃদ্ধি)।
নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে পুরো বর্ধিত মূল বেতন একসঙ্গে দেওয়া হবে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন
নতুন পে স্কেলের পূর্ণ সুবিধা একবারে পাচ্ছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেসিকের বর্ধিত অংশের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ২৫ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি ২৫ শতাংশ তৃতীয় ধাপে যোগ হবে।
অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি বেসিকের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে এবং বাকি অংশ ৩০ শতাংশ করে পরবর্তী দুই ধাপে কার্যকর করা হবে।
যেমন, ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,০০০ টাকা করা হচ্ছে। ফলে বর্ধিত ১১,৭৫০ টাকার ৫০ শতাংশ (৫,৮৭৫ টাকা) প্রথম ধাপে যুক্ত হয়ে বেসিক দাঁড়াবে ১৪,১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরো ২,৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা যোগ হয়ে বেসিক হবে ১৭,০৬২ টাকা ৫০ পয়সা। অবশিষ্ট ২,৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা তৃতীয় ধাপে যুক্ত হলে মূল বেতন চূড়ান্ত ২০,০০০ টাকায় পৌঁছাবে।
অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হচ্ছে। এতে বর্ধিত ৭৮ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ (৩১ হাজার ২০০ টাকা) প্রথম ধাপে যোগ হয়ে বেসিক দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যোগ হয়ে হবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং তৃতীয় ধাপে আরো ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত বেসিক হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
একইভাবে নবম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা করা হচ্ছে, যা তিন ধাপে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৪৪ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।
চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেসিক তিন ধাপে বাড়লেও নতুন হারে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা একসঙ্গে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ে পুরো নতুন বেসিক কার্যকর হওয়ার পরও নতুন ভাতার পূর্ণ সুবিধা পেতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।
এতে চাকরিজীবীদের প্রকৃত মাসিক আয় বেসিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
তবে বর্তমানে কর্মরত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও জটিল। কারণ তাদের বর্তমান বেসিক, ইনক্রিমেন্ট, চাকরির মেয়াদ ও অন্যান্য সুবিধা বিবেচনা করে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে।
নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে কার্যকর করাকে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, একবারে পুরো বেতন বৃদ্ধি করলে বাজেটের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতো। ফলে রাজস্ব আয়, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও সরকারের বাজেট সক্ষমতার কথা মাথায় রেখে তিন ধাপে বাস্তবায়নের এ পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
এএইচ
