পুলিশের অভিযানে হামলা, গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালালেন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৩:৫১ পিএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ইটপাটকেল ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু নিক্ষেপে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা (৪২)। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও আশপাশের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াকিলকে গ্রেপ্তারের জন্য ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান শুরু হলে তার অনুসারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে পুলিশকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, বোতল ও ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়। এতে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমসহ ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। একই ঘটনায় ওসির সরকারি গাড়িটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের বিভিন্ন গলি এবং ওয়াকিলের বাসায় অভিযান চালান।
অভিযান চলাকালে ওয়াকিলের বাসার ভেতরে একটি গোপন সুড়ঙ্গ ও বিকল্প বের হওয়ার পথের সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশের দাবি, ওই পথ ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তিনি আগেই পালিয়ে যান।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় ওয়াকিল মোবাইল ফোন ও ভিডিও কলের মাধ্যমে পুলিশকে হুমকি দেন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, কলেজশিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার পাশাপাশি ওয়াকিলের বিরুদ্ধে থাকা অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্টসহ অন্যান্য অপরাধের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে।
ওসি জানান, আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াকিলসহ হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিল হোসেন একসময় চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক, দখলবাজি ও বিস্ফোরক আইনের মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৮ জুন আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে গত ৩০ আগস্ট পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর এবং কলেজের অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওয়াকিলের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওই মামলার পর থেকেই ওয়াকিলকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসছে।
এমএইচ
