ঢাকা, সোমবার   ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২৩ ১৪৩৩

অটোরিকশার জন্য আসছে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:১২ পিএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে ডিজিটাল নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে চায় সরকার। এ জন্য প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে লেড-এসিড ব্যাটারির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহার এবং এলাকাভিত্তিক চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

সোমবার (৭সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত এক মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু অটোরিকশার কারণে রাজধানীর সড়কে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

রেহানা আক্তার রানু বলেন, ঢাকার ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর সড়কে বিভিন্ন অনিয়ম কমেছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এসব যানবাহনের নম্বর প্লেট না থাকায় ক্যামেরায় অনিয়ম শনাক্ত হলেও জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।

তিনি অটোরিকশা বন্ধ না করে কাঠামোগত পরিবর্তন, নম্বর প্লেট, চালকদের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। তাঁর মতে, কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে অটোরিকশা সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান দেশের গ্রামীণ ও নগর পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এসব যানকে ঘিরে চালক, গ্যারেজ শ্রমিক, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবাদাতাসহ বড় ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

তবে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এগুলো দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। অথচ বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

লেড-এসিড ব্যাটারি এবং এর অনিরাপদ পুনর্ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ছে বলে সংসদে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে বাতাস, মাটি ও পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ দুর্ঘটনায় অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জড়িত ছিল।

সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব যানকে একটি নির্দিষ্ট নিবন্ধন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। নীতিমালায় প্রতিটি অটোরিকশার জন্য কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে একটি নম্বরের অধীনে একাধিক অবৈধ অটোরিকশা চালানোর সুযোগ বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে লেড-এসিড ব্যাটারি বাদ দিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের শর্তও রাখা হবে।

রেহানা আক্তার রানু সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, তিনি অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি; বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি গলির সড়কে চলাচলের অনুমতি, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক চার্জিং অবকাঠামো, বিআরটিএ নিবন্ধন এবং এলাকাভিত্তিক জোনিংয়ের প্রস্তাব দেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ইতিমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে অটোরিকশাচালকদের কর্মসংস্থান যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সরকার জাতীয় স্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত এ নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।