হানি ট্র্যাপ থেকে মানি ট্র্যাপ, প্রতারণার নতুন ফাঁদ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৫৯ এএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব ও প্রেম। এরপর সুকৌশলে তৈরি করা হয় ঘনিষ্ঠতার পরিবেশ, ধারণ করা হয় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের গোপন ভিডিও। আর শেষ পরিণতি ব্ল্যাকমেইলিং ও মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি!
প্রতারণার এমন ভয়ংকর কৌশল 'হানি ট্র্যাপ' এখন এক আতঙ্কের নাম। চট্টগ্রামে এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে। একের পর এক পুরুষকে ফাঁদে ফেলা, অর্থ আদায় ও ভুয়া মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে চক্রের মূল হোতা মুনিয়ার বিরুদ্ধে।
সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানকে পুঁজি করে এভাবেই একের পর এক ব্যক্তিকে প্রতারণার জালে ফেলছে একটি প্রতারক চক্র। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের হালিশহরের বাসিন্দা মুনিয়া মূলত প্রতিষ্ঠিত ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে এই ফাঁদ পাতছে। ২০১৩ সালে হিমেল নামের এক ব্যক্তির হাত ধরে প্রতারণার জগতে পদার্পণ করা মুনিয়া পরবর্তীতে রাহুল, আকবরসহ একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে পেলেন।
চক্রটির প্রতারণার মাত্রা এখানেই শেষ নয়। ২০২৫ সালে নিজের আগের সন্তানের কথা গোপন রেখে তুহিন নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন মুনিয়া। কিছুদিনের মাথায় মোটা অঙ্কের সুবিধা নিয়ে তাকে তালাক দেন।
সম্প্রতি আসিফ নামের আরেক ব্যক্তিকে প্রেমের জালে ফেলে গোপন ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেওয়া হয় আইনি মারপ্যাঁচ ও মিথ্যা মামলার হুমকি। ২০২৫ সালে তানহা মাহির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা এমনই একটি মামলা পরবর্তীতে আদালত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হিসেবে খারিজ করে দেন।
বিবাহিত থাকা অবস্থায় আপনি কীভাবে একের পর এক পুরুষের সাথে এমন সম্পর্ক তৈরি করছেন? আপনার বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে সাদামাটা উত্তর দিলেন মুনিয়া।
আইনজীবীদের মতে, সম্পর্কের আড়ালে এটি সুস্পষ্ট ডিজিটাল অপরাধ ও ব্ল্যাকমেইলিং। তবে সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী আইনি ব্যবস্থার দিকে হাঁটেন না, যা এই চক্রগুলোকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত কারো সঙ্গে হুট করেই ঘনিষ্ঠ হওয়া কতটা বিপজ্জনক, এই ঘটনাগুলো তারই স্পষ্ট সংকেত। প্রেমের ছলে এই ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি ভুক্তভোগীদের।
এএইচ
