ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২৪ ১৪৩৩

শাহজালালে ফেব্রিক রোলে লুকানো ১,৬৫৫ দামি মোবাইল জব্দ

ইমন চৌধুরী একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:৫৯ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৪:১৩ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার

আমদানির ফেব্রিক রোলের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ দামি মোবাইল ফোন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমপোর্ট কার্গো এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার পূর্বপ্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ইমপোর্ট কার্গো এলাকায় এফএফ কার্গো আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আনা একটি চালানে তল্লাশি চালানো হয়। চালানটির এয়ারওয়ে বিল নম্বর 828-56782412।

অভিযানের সময় কাস্টমস, কাস্টমস গোয়েন্দা, এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তল্লাশির একপর্যায়ে আমদানি করা ফেব্রিক রোল পরীক্ষা করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে রোল খুলে দেখা যায়, কাপড়ের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন। প্রাথমিকভাবে মোট ১ হাজার ৬৫৫টি দামি মোবাইল ফোন পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চালানটি গত ৩১ আগস্ট হংকং এয়ার কার্গোর RH-6651 ফ্লাইটে হংকং, চীন থেকে বাংলাদেশে আসে। আমদানিকারকের ঘোষণায় পণ্যগুলোকে গার্মেন্টস ফেব্রিক হিসেবে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ঘোষিত পণ্যের আড়ালে মোবাইল ফোন লুকিয়ে দেশে আনার চেষ্টা করা হয়।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চালানটির ঘোষণা ছিল গার্মেন্টস ফেব্রিক। কিন্তু তল্লাশি করে ফেব্রিক রোলের ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ১ হাজার ৬৫৫টি দামি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে।”

কাস্টমস সূত্র বলছে, বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও অন্যান্য বিধিবিধান অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু ফেব্রিকের চালানের মধ্যে মোবাইল লুকিয়ে আনার ঘটনায় পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে এই চালানের সঙ্গে কারা জড়িত, পণ্যগুলো কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর আগে একই পদ্ধতিতে কোনো চালান বিমানবন্দর দিয়ে খালাস হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

জব্দ মোবাইল ফোনগুলোর ব্র্যান্ড, মডেল ও বাজারমূল্য যাচাইয়ের পর চালানটির মোট আর্থিক মূল্য এবং সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও কার্গো কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এএইচ