ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২৪ ১৪৩৩

ইয়েমেনের অস্থিতিশীলতার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করলেন হুথি-পন্থী সাংবাদিক

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:৪২ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৭:৪৬ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার

ইয়েমেনের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছেন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও হুথি-পন্থী সাংবাদিক হোসেন আল-বুখাইতি। তাঁর দাবি, সানা বিমানবন্দরে হামলার মধ্য দিয়েই সাম্প্রতিক উত্তেজনার নতুন পর্বের সূত্রপাত হয়।

আল-বুখাইতির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইয়েমেন সংকট নিরসনে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যে ‘রোডম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করেনি রিয়াদ। এর পাশাপাশি, ইরান সফর শেষে হুথি কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি বিমান সানা বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করার সময় রানওয়েতে হামলার ঘটনাকেও তিনি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।

আল-জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এসব ঘটনার পর হুথিরা সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিশেষ করে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করে। তবে তাঁর দাবি, ইয়েমেন থেকে কোনো হামলা চালানোর আগে সৌদি আরবকে সতর্ক করা হয়েছিল।

আল-বুখাইতি বলেন, হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ২০২৩ সালের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছিল। এসব দাবি পূরণ না হলে হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, “সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া কী ছিল? তারা সানা বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল। সুতরাং এর দায়ভার তাদেরই।”

তবে সানা বিমানবন্দরে হামলার দায় নিয়ে পক্ষগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছিল, ইরান থেকে আসা একটি বিমানকে সানায় অবতরণ ঠেকাতেই রানওয়েতে হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে হুথিরা এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে এবং পাল্টা সৌদি ভূখণ্ডে হামলার হুমকি দেয়।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ ইয়েমেনে ২০২২ সালের পর থেকে চলে আসা তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিস্থিতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে আলোচিত ২০২৩ সালের রোডম্যাপে সরকারি কর্মীদের বেতন, সড়ক ও বিমানবন্দরের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং তেল রপ্তানি পুনরায় চালুর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল; তবে সেটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ নেয়নি।
 
এমএইচ