ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২৪ ১৪৩৩

ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা

মাদারীপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মনিরুলের স্বজনরা আত্মগোপনে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:২৫ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর মাদারীপুরে মনিরুল হাওলাদারের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি গ্রামের বাড়ি থেকে তারা সরে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, খালাসীকান্দির ওই বাড়িতে টিনশেডের দুটি ঘর রয়েছে। বাড়ির সব কটি ঘরেই বাইরে থেকে তালা ঝুলছিল। পুরো বাড়িটি ছিল জনশূন্য। ঘটনার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ওই বাড়ির আশপাশে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে পুলিশ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, মনিরুল হাওলাদার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পাশের বাড়ির বাসিন্দা ও মনিরুলের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। বিদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে তারা সরে গেছেন বলে তার ধারণা।

পরে মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি যান মনিরুল। এ জন্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওবায়দুলের ভাষ্য, বিদেশে যাওয়ার পর মনিরুলের ওপর পরিবারের আর্থিক প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং এখনো তাদের ঋণের চাপ রয়েছে। ভেনিসের ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছেন বলেও জানান তিনি।

মনিরুলের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দেশে থাকার সময়ও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। বিদেশে গিয়েও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, মনিরুলের কারণে এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তারা মনে করেন। ভেনিসের ঘটনার জন্য তার বিচার হওয়া উচিত এবং এ ঘটনায় তাকে ক্ষমা চাওয়া দরকার বলেও দাবি করেন তিনি।

মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদারও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে তার কর্মকাণ্ডের কোনো সমর্থন নেই। তিনি বলেন, বিদেশে এমন ঘটনায় জড়িয়ে মনিরুল দেশের পাশাপাশি পরিবারেরও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।

এদিকে মনিরুলের বাড়িতে হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, মনিরুল দেশে থাকার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তিনি জানেন। বিদেশেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে শুনেছেন।

চেয়ারম্যান জানান, মঙ্গলবার সকালে একটি সংগঠনের কয়েকজন ব্যক্তি মনিরুলের বাড়িতে এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় এবং তারা বাড়িতে কোনো হামলা না করেই চলে যান। বর্তমানে বাড়িটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা বা ভাঙচুর করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তিনি সহযোগিতা করছেন।

ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে অভিযুক্ত মনিরুলের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতি এবং নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এমএইচ