ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২৫ ১৪৩৩

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৫৫ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর ওপর আলোচনার সময় তিনি বিএনপির সম্ভাব্য শাসনামল, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব সংকট দূর হয়ে যাবে—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ বা সারের সংকট থাকবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির অতীত রেকর্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য।

তার বক্তব্যের এ পর্যায়ে সরকারি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য হৈ-চৈ শুরু করেন। জবাবে রুমিন ফারহানা সংসদের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী মতের বক্তব্যে যে ধরনের বাধা দেওয়া হতো, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা করেন।

পরে ব্যাংক রেজুলেশন বিলে যুক্ত হওয়া নতুন একটি ধারার প্রসঙ্গ তুলে তিনি সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি হওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নির্বাচনের আগে আদালতে রিট করে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেন।

তার এই বক্তব্যের পর সংসদে ফের হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদের প্রত্যেক সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কারও বক্তব্য পছন্দ না হলে পরবর্তী সময়ে তার জবাব দেওয়া যেতে পারে; কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা যার যার মতামত স্বাধীনভাবে উপস্থাপন করবেন এবং অন্য সদস্যরা নিজেদের বক্তব্যের সুযোগ পেলে সেই বক্তব্যের জবাব দিতে পারবেন।

এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও রুমিন ফারহানার বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, বক্তব্যের সবকিছু সঙ্গত নাও হতে পারে, তবে কোনো সদস্যের বক্তব্য শোনার যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি তা উপস্থাপনেরও অধিকার রয়েছে। কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এরপর রুমিন ফারহানা কয়েকবার বক্তব্য দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেও তাকে আর সুযোগ দেওয়া হয়নি।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি সংসদে গঠনমূলক আলোচনা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখা চিফ হুইপের অন্যতম দায়িত্ব। একই সঙ্গে প্রত্যেক সদস্য যেন গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্বাধীনভাবে বক্তব্য দিতে পারেন, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

এমএইচ