মোখা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৭:৩৪ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। মোখা দখলের ফলে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর হুথিদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইয়েমেন সরকারের চারটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হুথিদের অগ্রযাত্রার কারণে দেশটির সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দক্ষিণে ধুবাব এলাকার দিকে সরে যাচ্ছে। ধুবাবের অবস্থান বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি এবং এর অপর পাশে রয়েছে পেরিম দ্বীপ। সমুদ্রপথটির নিয়ন্ত্রণের জন্য এ দুটি এলাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ইয়েমেনের পাশাপাশি জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মধ্যবর্তী এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা হয়। সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য পরিচালনাতেও পথটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ফলে মোখা ও আশপাশের এলাকায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার মধ্যে সৌদি আরবের একটি সতর্কবার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনে হুথিদের ওপর প্রভাব ব্যবহার করে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ওই বার্তা পৌঁছানো হয়। জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হুথিদের ওপর তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই।
হুথিরা ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক জোট ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে পরিচিত। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তারা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের সংঘাতের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর—দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে মাত্র সাতটি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১০ দিনের গড়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় অর্ধেক।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ওই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকানদের একটি সম্মেলনে তিনি ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা বলেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ইরান অবশ্য বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে হুথিদের অগ্রযাত্রা এবং হরমুজ ও লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে বিঘ্ন—দুই দিক থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যপথের ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।
সূত্র: রয়টার্স
