ঢাকা, শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২৮ ১৪৩৩

১ হাজার টন বিস্ফোরক দিয়ে ইসরায়েলি হামলা, কেঁপে উঠল লেবানন 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৪৮ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

দক্ষিণ লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। 'আলি তাহের রিজ' নামক এলাকার নিচে অবস্থিত দুটি কৌশলগত টানেল উড়িয়ে দিতে ১ হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে বলে আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ধ্বংসপ্রাপ্ত টানেল দুটির মোট দৈর্ঘ্য ছিল দুই কিলোমিটারেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এই প্রলয়ংকরী বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এর ফলে সৃষ্ট কম্পন রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পের সমান ছিল। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা তুমুল লড়াইয়ের পর গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনী ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। গত মার্চ মাসে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত পুনরায় তীব্র হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ এখনো ইসরায়েলি সেনাদের দখলেই রয়েছে। আইডিএফের পক্ষ থেকে প্রকাশিত স্থিরচিত্র ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের পর বিশাল আগুনের গোলায় পুরো আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে। 

আলিতাহের রিজ থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত নাবাতিয়েহ শহরের বাসিন্দা আহমেদ জানান, "হঠাৎ আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে এবং এর মাত্র ১৫ সেকেন্ড পর আমরা এক ভয়াবহ ও বিকট শব্দ শুনতে পাই। পুরো বাড়িটি এমনভাবে কাঁপছিল যেন মারাত্মক কোনো ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

তিনি আরও জানান, আতঙ্কে মানুষ চিৎকার শুরু করে এবং শিশুরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের পরপরই বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাজধানী বৈরুতের উদ্দেশ্যে রওনা হলে সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মূল ঘটনাস্থল থেকে উত্তরে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর সাইদাতেও এই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মাটির নিচে গড়ে তোলা এই গোপন অবকাঠামোটির ভেতরে হিজবুল্লাহর 'বদর ইউনিট' এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টার সক্রিয় ছিল। সেখানে কয়েক ডজন রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) ছাড়াও বিপুল পরিমাণ ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র, মাইন ও শক্তিশালী বিস্ফোরক মজুত ছিল। এই কমপ্লেক্সটি গুড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ওই অঞ্চলে সব মিলিয়ে আটটি টানেল ধ্বংস করার দাবি করল আইডিএফ।

এমএইচ