ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়লেন উর্দু বিভাগের ঢাবি শিক্ষার্থী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৬:০৫ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৬:০৭ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আবু তৈয়ব বলেন, এ দেশের ভাষা আন্দোলনের আসল নায়কদের বাদ দিয়ে পাকিস্তানের জাঁদরেল জিন্নাহর ছবি কেন ডাকসু রেখেছে, তার জন্য প্রশাসন ও ডাকসুর নেতাদের জবাব দিতে হবে। যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সে জিন্নাহকে কীভাবে এখানে রাখা হয়?
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ—সব জায়গায় রক্ত দিয়েছে। এখানে ভাষা আন্দোলনের নায়ক আবুল কাসেমের ছবি থাকতে হবে। এখানে শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবিও থাকতে হবে।
আবু তৈয়ব আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফলে সংগ্রহশালায় কোন ব্যক্তির ছবি কীভাবে এবং কোন প্রেক্ষাপটে প্রদর্শন করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তিনি ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো উপাদান সংগ্রহশালায় রাখা হলে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। তার ভাষ্য, জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে রোববার সংস্কার শেষে ডাকসু সংগ্রহশালাটি নতুনভাবে চালু করা হয়। সংস্কারের পর সেখানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি সংযোজন করা হয়। এর মধ্যে একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া জিন্নাহর ভাষণের ছবি। ওই ভাষণে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
এছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবি এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত জিন্নাহর ছবি-সম্বলিত পাকিস্তানের ‘ডন’পত্রিকার একটি প্রতিবেদনও সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে।
এদিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ডাকসুর বর্তমান পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে উপেক্ষা করে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি ‘প্রচ্ছন্ন অনুরাগ’ প্রদর্শন করছে।
সংগঠনটি আরও দাবি করে, সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি সংযোজনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি অবস্থান তৈরি হয়েছে।
জিন্নাহর ছবি সংযোজন নিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির উপস্থাপন কীভাবে করা হয়েছে, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এমএইচ
