ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   আশ্বিন ১ ১৪৩৩

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:০৬ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার

রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। সংগঠনটির নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ এ বিষয়ে দৃঢ় সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।

বুধবার (১৬সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাবেদ নবনির্বাচিত মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করা হয়।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। ওআইসি মহাসচিব বলেন, সংকটটির দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত জাবেদ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং ওআইসির নতুন মহাসচিবের দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার কথা জানান।

এ সময় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রশংসা করেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি

বাংলাদেশের গাজীপুরে অবস্থিত ওআইসির প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

ওআইসি মহাসচিব বলেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে আইইউটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সফরের বিষয়েও আগ্রহের কথা জানিয়ে মহাসচিব বলেন, তাঁর সফরসূচিতে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাওয়া দেশগুলোর একটি।

বৈঠকে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ মনে করে, দেশগুলোর প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

চুক্তিভিত্তিক কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আতিথেয়তা এবং শিক্ষা খাতে যৌথ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো পারস্পরিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের জনগণ ও নতুন নেতৃত্বের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করায় ওআইসি মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত জাবেদ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যতে ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

এমএইচ