ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   আশ্বিন ২ ১৪৩৩

মক্কায় ‘ড্রোন হামলা’সৌদির কাছে প্রমাণ চাইল ইরান 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৩২ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

মক্কার দিকে হুথিদের ড্রোন পাঠানোর সৌদি আরবের অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ চেয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি ড্রোন মক্কার দিকে যাচ্ছিল—শুধু এমন দাবির ভিত্তিতে হুথিদের দায়ী করা যথেষ্ট নয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।

ইরানি মুখপাত্র বলেন, ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলা বা আগ্রাসন নিন্দনীয়। বিশেষ করে মক্কার মতো পবিত্র স্থানের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে মক্কার দিকে যাওয়ার পথে একটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেটি হুথিদের হামলা ছিল বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি আরব জানায়, হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার দিকে যাওয়ার সময় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনবিষয়ক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকির ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়।

সৌদি জোটের দাবি, এটি মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগও করা হয়েছিল। তবে এবারের অভিযোগ হুথিরা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি বা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানো থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বাঘাই আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রে ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড থেকে দৃষ্টি সরানো এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

ইরানি মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঘটনা ঘটলে প্রথমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ী পক্ষ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে দেওয়া উচিত নয়।