ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   আশ্বিন ৩ ১৪৩৩

ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ, পেতে হবে ১৫ শতাংশ ভোট

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:৩৭ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের অর্থ পাঁচ গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমাও দ্বিগুণ করা হচ্ছে। নতুন বিধানে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে জামানত হিসেবে ২৫ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। বর্তমানে এ পরিমাণ ৫ হাজার টাকা। সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীদের ব্যয়সীমা ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমান নিয়মে কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সংশোধিত বিধানে এই সীমা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীনভাবে আয়োজনের কারণে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। প্রার্থী বেশি হলে ব্যালটে নামের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি ভোটকেন্দ্র পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনাতেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জামানত ও অন্যান্য বিধানে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনি অপরাধের জন্য শাস্তির বিধানও কঠোর করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান ব্যবস্থার মতোই নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে যে কেউ চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

২০১০ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় পরিবর্তন এনে সংশোধনীটি তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এটি নির্বাচন কমিশনে এসেছে। পরবর্তী ধাপে এসআরও নম্বর দেওয়ার জন্য আবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের কথা রয়েছে।

ইউপি ছাড়াও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের পৃথক বিধিমালাতেও পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধির খসড়া ও গেজেট-সংক্রান্ত নথিও প্রকাশিত হয়েছে।

জামানত ও ব্যয়সীমা বাড়ানোর ফলে প্রার্থিতা কমবে—এমন প্রত্যাশা করছে ইসি। অন্যদিকে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, জামানতের অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে আর্থিকভাবে কম সক্ষম হলেও যোগ্য এমন ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। এ নিয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রার্থিতার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এমএইচ