ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   আশ্বিন ৩ ১৪৩৩

ইয়েমেনে এক দিনের সংঘর্ষে নিহত ৬৩

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:১৬ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সংঘর্ষ ও সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত ৬৩ জন নিহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষের সামরিক সূত্র জানিয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

এএফপির প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি প্রদেশে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। বিপরীতে হুতি সামরিক সূত্রের দাবি, সৌদি বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে তাদের ৪০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

সংঘাতের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের ওপরও এর প্রভাব বাড়ছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে তাইজ, হোদেইদা, মারিব ও লাহিজ প্রদেশে ১৯টি ঘটনায় ৫৫ জন বেসামরিক হতাহত হওয়ার তথ্য জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর যাচাই করেছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের ১০ জন শিশু। জাতিসংঘ বলছে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে নতুন করে সহিংসতা বাড়ায় এরই মধ্যে নাজুক মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে। চলমান সংঘাতের কারণে হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে তাইজ ও দক্ষিণ হোদেইদা এলাকায় ৫ হাজার ৬০০-এর বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ডুজারিক জানান, সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অর্থের ঘাটতির পাশাপাশি ত্রাণ সংস্থাগুলোর স্থাপনায় নিরাপত্তাজনিত ঘটনাও সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত করছে।

এদিকে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় ইয়েমেনের ভেতরে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কয়েক হাজার মানুষ নৌপথে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে জিবুতিতেও আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনাও বাড়িয়েছে। হুতিদের হামলা ও সৌদি পাল্টা হামলার কারণে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যপথের ওপরও প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এমএইচ