ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   আশ্বিন ৩ ১৪৩৩

দেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি: নাহিদ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:২৫ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যা নাগরিকের অধিকার হরণের সুযোগ তৈরি করছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম, যে লড়াই করেছিলাম দেশের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, সেই গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার এখনো এই দেশে নিশ্চিত হয়নি।’

বাগেরহাটের মোংলার মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন করেন, ‘মিরাজ শেখ কোথায়?’তাঁর দাবি, মিরাজ নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এর আগে আগস্টেও মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাঁদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি জানিয়েছিলেন নাহিদ।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, মিরাজের পরিবার থানায় গেলে প্রথমে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ করতে দেওয়া হয়নি। গুমের অভিযোগের তদন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সাহস থাকে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন।’

গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করারও সমালোচনা করেন তিনি। নাহিদের দাবি, সালাহউদ্দিনের বক্তব্যের ভাষা নিয়ে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা করার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে গালি বা কটূক্তি করা সমর্থনযোগ্য না হলেও সেটিকে সন্ত্রাস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়েও আপত্তি জানান নাহিদ ইসলাম।

তাঁর দাবি, গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে শাস্তির বিধান থাকলে মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, কমিশনকে কোনোভাবেই সরকারের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা উচিত নয়।

জাতিসংঘে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের প্রসঙ্গেও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর প্রশ্ন, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকার কী জবাব দেবে।

তিনি বলেন, আপনি সেখানে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। আপনি সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন না। ভালো হতো, যদি জাতীয় ঐক্য আপনি দেখাতে পারতেন। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও সমালোচনা করেন নাহিদ। তাঁর অভিযোগ, সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে পারেনি।

মানববন্ধন থেকে গুমের অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এমএইচ