ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীকে মমতার নতুন দল
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৭:২৬ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের নাম ও প্রতীক নিয়ে চলা বিরোধের আপাতত ইতি টেনেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। এই দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘খাম’।
আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে এই নাম ও প্রতীকেই দুই শিবিরের প্রার্থীদের লড়তে হবে। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বর্তী নির্দেশে কমিশন ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত (ফ্রিজ) করে। ফলে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মমতা ও ঋতব্রত—কোনো শিবিরই জোড়াফুল প্রতীক বা পুরোনো দলের নাম ব্যবহার করতে পারবে না।
নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নিতে দুই শিবিরকে বিকল্প তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। মমতা শিবিরের প্রস্তাবিত নামগুলোর মধ্যে ছিল মমতার নাম যুক্ত বিভিন্ন তৃণমূল নাম। প্রতীকের তালিকায় ছিল ফুটবল খেলোয়াড় ও ক্রিকেট ব্যাট। শেষ পর্যন্ত ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীকটি অনুমোদন করা হয়।
অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’—এই তিনটি নাম প্রস্তাব করেছিল। প্রতীক হিসেবে তারা চেয়েছিল খাম, ব্ল্যাকবোর্ড ও টর্চ। শেষ পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস এবং খাম প্রতীক চূড়ান্ত হয়েছে।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে দলটির পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবার দুই শিবিরের কেউই ব্যবহার করতে পারছে না। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের কারণে ২০২৬ সালের এই উপনির্বাচন তাই তৃণমূলের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে।
মমতা শিবিরের পক্ষ থেকে কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার পর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে মমতা শিবিরে আরও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নন্দীগ্রামে তাঁরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবেন।
ফলে নির্বাচন কমিশনের নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণার পরও নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের নির্বাচনী সমীকরণ নতুন করে বদলে গেছে।
এমএইচ
