ছেলেকে বেঁধে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:০৪ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ঘরে ঢুকে স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বেঁধে রেখে তাঁর মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাজীব (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চরমছলন্দ কালীবাড়িচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বজনেরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে আটটার দিকে শরীফ, আরিফ, রাজীব, ফাহিম ও এনামুল নামের পাঁচ যুবক ওই সৌদি আরবপ্রবাসীর বাড়িতে যায়। খাবার পানি দেওয়ার কথা বলে গৃহবধূর স্কুলপড়ুয়া ছেলে রাতুলকে ঘর থেকে বের করে আনা হয়। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে বেঁধে ফেলা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর ঘরের ভেতর ছেলেকে বেঁধে রেখে শরীফ ও আরিফ ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় রাজীব মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শরীফ ও আরিফ সম্পর্কে ভাই।
ধর্ষণের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘরে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা, একটি সোনার চেইন ও দুই জোড়া কানের দুল নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তাঁরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে গফরগাঁও থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চরকালীবাড়ি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযুক্ত চারজন পালিয়ে গেলেও রাজীবকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রাজীব পানিতে ফেলে দিয়েছিলেন। পরে ওই ফোনটি পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর দেবর রাসেল মিয়া বলেন, ‘যারা আমার ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, আমি তাদের বিচার চাই।’
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ করেছেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
এমএইচ
