মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদিকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:২২ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে তুরস্ক। ঐতিহাসিক ‘মক্কা চুক্তি’র আলোকেই রিয়াদকে এ সহায়তা দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে আঙ্কারা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
তিনি বলেন, “আমরা দেখছি সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর গুরুতর আঘাত আসছে। তাদের সঙ্গে আমাদের একটি পারস্পরিক চুক্তি রয়েছে। সৌদি আরবের এখন কিছু সামরিক সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত (টেকনিক্যাল) ক্ষেত্রে। এ ধরনের সহায়তা দিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।”
জোর দিয়ে হাকান ফিদান বলেন, এই সংকটকালে সৌদি আরবের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে তুরস্ক অঙ্গীকারবদ্ধ এবং কারিগরি সামরিক সহায়তা পাঠাতে আঙ্কারা পুরোপুরি প্রস্তুত।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ‘মক্কা চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত এই সমঝোতার প্রধান শর্ত অনুযায়ী—স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং যৌথভাবে তার মোকাবিলা করা হবে।
শনিবার হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
হামলার পরপরই রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত আরামকোর একটি জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) ডিপো লক্ষ্য করে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথিরা।
এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের জেরে রিয়াদ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচলে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং আরও কয়েকশ’ ফ্লাইটের শিডিউল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
এএইচ
