ঢাকা, সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   আশ্বিন ৫ ১৪৩৩

বিয়ে না করার শর্তে পারিবারিক পেনশন পাবেন বিধবা স্ত্রী-বিপত্নীক স্বামী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৪৭ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ০৯:৫১ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার

মৃত সরকারি কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী ও বিপত্নীক স্বামী পুনর্বিবাহ না করার শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন। তবে পারিবারিক পেনশন ভোগের সময় পুনর্বিবাহ করেননি, এ মর্মে বছরে একবার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে এ অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন বিভিন্ন সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম স্বাক্ষরিত আদেশটি গত ২ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা হয়। ২৫ বছর বা বেশি চাকরিতে গ্রস পেনশন ৯০ শতাংশ

নতুন আদেশে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি হলে গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। ৫ বছর চাকরিকালে এ হার ২১ শতাংশ এবং ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব চাকরিকালে ৯০ শতাংশ।

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল অনুযায়ী গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ধাপে ধাপে বাড়বে। ১০ বছর চাকরিকালে ৩৬ শতাংশ, ১৫ বছরে ৫৪ শতাংশ, ২০ বছরে ৭২ শতাংশ এবং ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালে ৯০ শতাংশ হারে গ্রস পেনশন নির্ধারণ করা হবে।

তবে ৫ থেকে ২৪ বছরের পেনশনযোগ্য চাকরিকালের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পেনশন প্রাপ্য হবে। বিএসআর পার্ট-১-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নিয়মিত চাকরির অবসান, মৃত্যু, স্থায়ীভাবে শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়া এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি শেষ হলে পেনশন পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে পেনশনভোগীদের নিট পেনশন ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পাওয়া নিট পেনশনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী আলাদা হারে বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার হবে ১০০ শতাংশ। এ শ্রেণিতে ন্যূনতম নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে নিট পেনশন ১৮ হাজার ১ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে।

২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে ন্যূনতম ৩৫ হাজার ১ এবং সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে বৃদ্ধির হার ৬০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৪৯ হাজার ১ এবং সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন হবে।

আর ৪০ হাজার ১ টাকা ও তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে ন্যূনতম নিট পেনশন ৬২ হাজার ১ এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যেসব বিদ্যমান পেনশনভোগী ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাঁরা পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট—অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৭-এর আগে—বর্তমানে যে পরিমাণ নিট পেনশন পাচ্ছেন, সেটিই পাবেন।

সরকারি কর্মচারীদের আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ৫ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১০ বছরের কম পেনশনযোগ্য চাকরিকালের জন্য প্রতি টাকায় ২৬৫ টাকা, ১০ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১৫ বছরের কম চাকরিকালের জন্য ২৬০ টাকা, ১৫ বছর বা তার বেশি কিন্তু ২০ বছরের কমের জন্য ২৪৫ টাকা এবং ২০ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য প্রতি টাকায় ২৩০ টাকা হারে আনুতোষিক দেওয়া হবে।

অবসরকালে পাওনা ছুটি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যাবে। অর্থাৎ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ছুটি নগদায়ন হিসেবে পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ও ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তর করা যাবে। অবসরকালীন মূল বেতনের ভিত্তিতে এ নগদায়ন সুবিধা অবসর-উত্তর ছুটি শুরুর সময় প্রাপ্য হবে। কোনো কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ না করলেও এ আর্থিক সুবিধা পাবেন।

কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বাস্থ্যগত কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে অথবা তাঁর মৃত্যু হলে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। চাকরির মেয়াদের প্রতি বছর বা তার অংশবিশেষের জন্য শেষ আহরিত তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ হারে ওই কর্মচারী বা তাঁর পরিবার এ সহায়তা পাবেন।

আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধান, আদেশ, স্মারক ও প্রজ্ঞাপনগুলো নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত বা সংশোধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। ফলে ওই তারিখ থেকে পিআরএল ভোগরত কর্মচারীরাও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুনর্নির্ধারিত সুবিধা পাবেন।

এমএইচ