বৈশ্বিক বাজারে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:৫৯ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—দুই ধরনের তেলের দামই সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ১৬ ডলার কমে ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ১৫ ডলার কমে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে লেনদেন হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর এবারই প্রথম ব্রেন্টের দাম ১০২ ডলারের নিচে এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দামে সংঘাতজনিত অতিরিক্ত মূল্য কিছুটা কমছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মনে করেন, চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ দেখা যেতে পারে—এমন প্রত্যাশা বাজারে প্রভাব ফেলছে। তবে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে সংঘাতের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে পেজেশকিয়ানের চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্যের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের শর্ত জানিয়েছে তেহরান।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর ইয়ানবুতে অবস্থিত একটি স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে সৌদি আরব এতদিন ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ করছিল। তবে পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইয়ানবু থেকে তেল পরিবহন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে সৌদিকে আবারও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
